মহেশখালীতে তৈরি হতে যাওয়া জ্বালানি ও অর্থনৈতিক হাবের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য চলমান ও নতুন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে পর্যালোচনা সভা। 

এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের আয়োজনে পর্যালোচনা সভায় এই হাব গড়ে তুলতে বিদ্যমান এবং প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সভায় হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মহেশখালী এলাকায় প্রস্তাবিত কার্যক্রমগুলো খতিয়ে দেখা হবে। সেই সঙ্গে কার্যক্রমগুলোর ইমপ্লিমেন্টেশন মোডালিটিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা রয়েছে-সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশ কিছু প্রকল্প চলমান। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, মাতারবাড়ী ৭০ মেগাওয়াট (এসি) গ্রিড-টাইড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট এবং মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩-এর (ধলঘাটা) গ্যাস ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। আরও রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (চবক) এবং মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প-১ (সওজ)। এসব প্রকল্পের পরিচালকদের ডাকা হয়েছে সভায়। সূত্র আরও জানিয়েছে, পর্যালোচনা সভায় কয়েকটি সংস্থা লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করবে।

সূত্র জানিয়েছে, মহেশখালী এলাকাকে শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে রূপান্তরের জন্য এরই মধ্যে গঠিত হয়েছে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)। এর জন্য তৈরি করা হয়েছে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৬। তৈরি হচ্ছে একটি মাস্টারপ্ল্যানও। এটি তৈরিতে কাজ করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এটির আওতায় আগামী ৩০ বছরে ৬০-৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে জাপানি সহায়তায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির কাজ চলছে। এতে বড় জাহাজ ৮ হাজার টিইউএস পর্যন্ত হ্যান্ডেল করতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া ল্যান্ডভিত্তিক এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, জাইকার কারিগরি সহায়তা ও অর্থায়নে জেটি এবং টার্মিনাল নির্মাণকাজের প্রথম প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। এর আওতায় ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়া কনটেইনার জেটি, গ্রাউন্ড স্লট, টার্মিনাল ভবন, ব্রেকথ্রু চ্যানেল ও প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। এদিকে মাতারবাড়ী বন্দরকে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রায় ২৭ দশমিক ৭ কিলোমিটারের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০৫৫ সালের মধ্যে তিনটি ধাপে এই অঞ্চলকে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং লজিস্টিক হাব, যোগাযোগ ও রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি হাব, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ভারী শিল্প এবং ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি কাজে লাগাতে মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।