মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকেরা কাজে না ফিরলে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা। তবে আপাতত উৎপাদন চালু রাখার পক্ষে অধিকাংশ উদ্যোক্তারা। আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

আজ রবিবার বিকেলে ঢাকার উত্তরায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

সভা শেষে মাহমুদ হাসান খান জানান, কয়েকজন উদ্যোক্তা আগামীকাল থেকে কারখানা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে অধিকাংশ উদ্যোক্তা উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। এখন মজুরি বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত করা। মজুরি বোর্ড গঠনের পর আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণ ভাবে কারখানায় কাজে ফিরে যাবেন। এখন যদি আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।

এদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রবিবার রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকেরা। এ সময় সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশ বক্স ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভের কারণে মিরপুরে সাময়িক ভাবে বন্ধ ছিল মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন।

বিজিএমইএ বলছে, গতকাল ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভারের আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৫২৯টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুর এলাকার ৬৮টি, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ২৭৬টি এবং আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ১৮৫টি কারখানা রয়েছে।