২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের ঠিক আগমুহূর্তে-অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কথা যখন ভাবছিলেন ছাত্রনেতারা, তাদের তখন বড় প্রয়োজন ছিল একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর। সেই গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন এএফপির ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক দলের সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির। বর্তমানে তিনি দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের দেওয়া এক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

পোস্টে তিনি জানান, এএফপি ঢাকা ব্যুরোতে আমার ডেস্ক থেকে মাত্র এক গজ দূরে বসে শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজটি পরিচালনা করেন। পুরো বিষয়টি হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিই জানতেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ছাত্রনেতাদের পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মূল কাজটি করেছিলেন শিশির নিজেই।

তিনি আরও লেখেন, হাসিনার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে তখনও দুই দিন বাকি ছিল। অথচ তার নৃশংস নিরাপত্তা বাহিনী-যারা নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও গুমের জন্য কুখ্যাত-তারা বিন্দুমাত্রও বিষয়টি টের পায়নি। যদি তারা জেনে যেত কী ঘটছে, তবে শিশিরসহ পুরো এএফপি টিমকে সম্ভবত ‘আয়নাঘর’র (গোপন বন্দিশালা) অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঠাঁই নিতে হতো।

সাবেক প্রেস সচিব লেখেন, এই পুরো সময়জুড়ে শিশির অত্যন্ত শান্ত ও অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি গোপনে সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলেন।