রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আজ শুক্রবার বেলা সাড় ১০টা নাগাদ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকের সামনের প্রধান সড়কের দুই পাশ আটকে অবস্থান নেন। সড়ক অবরোধের ফলে ওই এলাকার যান-চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কেউই পরিচয় প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রী কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি:
১. অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, ২. ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে ও শোকজ করতে হবে, ৩. অধ্যক্ষ লিখিত পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের যাবতীয় সকল কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে, ৪. শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকে যেসব শিক্ষক-কর্মচারী সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।
এর আগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড় ১০টা থেকে অধ্যক্ষের রুমের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা অধ্যক্ষকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত সাড় ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে বের করে নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হেনস্তা করে বলে অভিযোগ ওঠে, যাতে বেশ কয়েকজন ছাত্রী আহত হন। পুলিশের এ ধরনের আচরণের প্রতিবাদে রাতেই তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে সকালে নির্ধারিত সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে আন্দোলন কিছুটা শিথিল রাখেন ছাত্রীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই আবার তারা আন্দোলন শুরু করেন।
পূজার ছুটির আগে অডিটোরিয়ামে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের বিদায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময় রাত ১২টার বদলে ভোর ৫টা পর্যন্ত চালানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানের দুজন সমন্বয়কারীর হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীরা ক্ষমা চাইতে গেলে তাঁদের কাছে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। এমনকি এক ছাত্রী ক্ষমা চাইতে গিয়ে পা ধরলে অধ্যক্ষ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনার পরই মূলত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। রাত ১২টা পর্যন্ত অনুমতি থাকলেও তারা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়েছে। তাই শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রাথমিকভাবে আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা ক্ষমা চাইলে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিলটি পরিশোধ করতে বলা হয়। জরিমানা চাওয়াই আমার অপরাধ হয়ে গেছে।’ সাদা কাগজে পদত্যাগের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে সাদা কাগজে সই করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে এভাবে পদত্যাগ করব?’
অন্যদিকে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াছমিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা সাদা কাগজে পদত্যাগ করতে পারেন না। সার্বিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে শিক্ষা সচিব ও মাউশি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।