প্রতি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কথোপকথনে ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানান অনেকেই। কেউ কেউ এটিকে নিয়মিত ধর্মীয় আমল হিসেবেও পালন করেন। তবে প্রতি শুক্রবার এভাবে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো ভিত্তি পবিত্র কোরআন, হাদিস কিংবা সাহাবিদের আমলে পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি জানিয়েছে, ‘জুমা মোবারক’ শব্দের অর্থের দিক থেকে আপত্তি না থাকলেও প্রতি শুক্রবার নিয়ম করে এভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়।

প্রকাশিত ফতোয়ায় বলা হয়, কাউকে ‘জুমা মোবারক’ বলার অর্থ হলো, তার জুমাবার বরকতময় হোক। বাক্যটির অর্থে আপাতদৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রতি শুক্রবার নিয়মিত এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রথা রাসুলুল্লাহ (সা.) কিংবা সাহাবায়ে কেরামের আমলে পাওয়া যায় না।

ফতোয়ায় এ প্রসঙ্গে বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়-মন কোনো নতুন আমল চালু করা হলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।

ফতোয়ায় সৌদি আরবের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শাইখ সালিহ আল-ফাওজানের একটি মতামতও তুলে ধরা হয়েছে। তাকে শুক্রবারে ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কোরআন ও হাদিসে এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো ভিত্তি নেই। সাহাবায়ে কেরাম ও পূর্ববর্তী নেককার ব্যক্তিদের আমলেও এর প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এটিকে বিদআত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ফতোয়াটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘জুমা মোবারক’ শব্দের অর্থ ইতিবাচক হলেও একে প্রতি শুক্রবারের নির্দিষ্ট ধর্মীয় আমল বা সুন্নাহ মনে করে পালন করার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।