গাজীপুরের জয়দেবপুরে অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও পরে ফুসলিয়ে অপহরণের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন। তিনি জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ওই ছাত্রীর বাবা জয়দেবপুর থানায় মামলাটি করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি মো. আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি স্থানীয় মারকাজুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক এবং দারুল মা'আরিফ হোসাইনিয়া (কওমি) মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরিফুল ইসলামের ভাইয়ের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. শরীফ মিয়া (৩৫), তার বাবা মো. সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) এবং পিরুজালী বর্তাপাড়া এলাকার মো. জাফরের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চর বওলা গ্রামে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় মারকাজুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ওই ছাত্রীকে জোর করে অপহরণের হুমকি দেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম অন্য আসামিদের সহায়তায় নানা প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীটিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

ঘটনার পর ছাত্রীর বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাতেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৭ ও ৩০ ধারায় জয়দেবপুর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি ২৫ অক্টোবর নথিভুক্ত হয়, যার নম্বর ৩০। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ওসি আল মামুন বলেন, 'মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।'