ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাত প্রার্থীর মধ্যে একাডেমিক ফলাফলে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা ফিরোজা নাজনীন নামে এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চার মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকলেও আজ রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিতর্কিত এ প্রার্থী বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির পর সাতজন প্রার্থী আবেদন করেন। তারা সবাই নিয়োগ বোর্ডে অংশ নেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে অন্য প্রার্থীদের ভাইভা থেকে বাদ দিয়ে একাডেমিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকা ফিরোজা নাজনীনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায়।
এ সিদ্ধান্তের পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সিন্ডিকেটের এক সদস্য আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান প্রার্থীর পূর্ববর্তী একাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ে তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন। কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাত প্রার্থীর মধ্যে ফিরোজা নাজনীনই একাডেমিক ফলাফলে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছেন। তিনি একটি রিটেক ও তিনটি মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর স্নাতকে ৩.৫৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৪ সিজিপিএ অর্জন করেন। তার এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ এবং এইচএসসিতে ৪.৮০।
অন্যদিকে, প্রার্থী আবু রোম্মান রিফাত স্নাতকে ৩.৭৮ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৯১ সিজিপিএ পেয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রার্থী খন্দকার তাসনিয়া হকের স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৯২ এবং স্নাতকোত্তরে ৪.০০। রাকিবুল ইসলাম-১ স্নাতকে ৩.৬৯ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ এবং রাকিবুল ইসলাম-২ স্নাতকে ৩.৯৫ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। রাকিবুল ইসলাম-২ স্নাতকে অনুষদে প্রথম স্থানও অর্জন করেন।
এ ছাড়া শারমীন তাজরিয়া অনন্যার স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ যথাক্রমে ৩.৬৪ ও ৩.৭৯। মাসুদ রানার স্নাতকে ৩.৭২ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ রয়েছে। সাত প্রার্থীর মধ্যে ফিরোজা নাজনীন ছাড়া বাকি ছয়জনের থিসিস ছিল। তিনি নন-থিসিস শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি দিক সামনে এসেছে ফিরোজা নাজনীনের পূর্ববর্তী নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘিরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সময়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। ওই পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অথচ বর্তমান উপাচার্যের প্রশাসনের প্রথম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইসিটি বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। ভিন্ন দুই বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় তার ফলাফলের এই পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, গত ১ জুলাই অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনকে নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিতর্ক চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগে পরীক্ষার ফল টেম্পারিং করে স্ত্রীর ফল বাড়ানো, পরপর দুইবার পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন, নিয়োগ বোর্ডের আগে এক্সপার্টের সঙ্গে আবাসিক হোটেলে সাক্ষাৎ এবং সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি বলেন, ‘আমরা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এ নিয়োগের বিষয়ে আজকের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির পর সাতজন প্রার্থী আবেদন করেন। তারা সবাই নিয়োগ বোর্ডে অংশ নেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে অন্য প্রার্থীদের ভাইভা থেকে বাদ দিয়ে একাডেমিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকা ফিরোজা নাজনীনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায়।
এ সিদ্ধান্তের পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সিন্ডিকেটের এক সদস্য আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান প্রার্থীর পূর্ববর্তী একাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ে তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন। কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাত প্রার্থীর মধ্যে ফিরোজা নাজনীনই একাডেমিক ফলাফলে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছেন। তিনি একটি রিটেক ও তিনটি মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর স্নাতকে ৩.৫৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৪ সিজিপিএ অর্জন করেন। তার এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ এবং এইচএসসিতে ৪.৮০।
অন্যদিকে, প্রার্থী আবু রোম্মান রিফাত স্নাতকে ৩.৭৮ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৯১ সিজিপিএ পেয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রার্থী খন্দকার তাসনিয়া হকের স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৯২ এবং স্নাতকোত্তরে ৪.০০। রাকিবুল ইসলাম-১ স্নাতকে ৩.৬৯ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ এবং রাকিবুল ইসলাম-২ স্নাতকে ৩.৯৫ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। রাকিবুল ইসলাম-২ স্নাতকে অনুষদে প্রথম স্থানও অর্জন করেন।
এ ছাড়া শারমীন তাজরিয়া অনন্যার স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ যথাক্রমে ৩.৬৪ ও ৩.৭৯। মাসুদ রানার স্নাতকে ৩.৭২ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ রয়েছে। সাত প্রার্থীর মধ্যে ফিরোজা নাজনীন ছাড়া বাকি ছয়জনের থিসিস ছিল। তিনি নন-থিসিস শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি দিক সামনে এসেছে ফিরোজা নাজনীনের পূর্ববর্তী নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘিরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সময়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। ওই পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অথচ বর্তমান উপাচার্যের প্রশাসনের প্রথম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইসিটি বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। ভিন্ন দুই বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় তার ফলাফলের এই পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, গত ১ জুলাই অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনকে নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিতর্ক চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগে পরীক্ষার ফল টেম্পারিং করে স্ত্রীর ফল বাড়ানো, পরপর দুইবার পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন, নিয়োগ বোর্ডের আগে এক্সপার্টের সঙ্গে আবাসিক হোটেলে সাক্ষাৎ এবং সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি বলেন, ‘আমরা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এ নিয়োগের বিষয়ে আজকের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।