অসুস্থ স্বামী, চার মেয়ের দায়িত্ব আর ঋণের বোঝা সব সামলে জীবিকার জন্য লড়ছেন হালিমা খাতুন। সন্তানদের খরচ জোগাতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের পাশাপাশি রিকশা চালান তিনি। অভাবের সংসারেও স্বপ্ন দেখেন, দুই মেয়েকে হাফেজা বানাবেন। চান, পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে নিজের উপার্জনে সংসার চালাতে।
রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় থাকেন হালিমা। তার স্বামী মজিবর রহমান ও চার মেয়ে থাকেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে। জীবিকার তাগিদে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় তাকে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ শেষে রিকশা নিয়ে বের হন রাস্তায়। দিনভর পরিশ্রম করে যা আয় হয়, তা দিয়ে নিজের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্যও টাকা পাঠান।
হালিমা জানান, একসময় তার স্বামী কাজ করতেন। কিন্তু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পড়েছে হালিমার কাঁধে।
চার মেয়ের মধ্যে বড় দুজনের বয়স ১৬ ও ১৩ বছর। অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ১১ ও ৯ বছর বয়সী ছোট দুই মেয়ে মাদরাসায় পড়ছে। এই দুই মেয়েকে হাফেজা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন হালিমা। কিন্তু সংসারের অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে তাকে।
এর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার টাকার ঋণ। হালিমা জানান, গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় রিকশা নিয়ে চালানোর জন্য এক ব্যক্তিকে ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ব্যক্তি রিকশা নিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঋণের দায় এসে পড়ে তার ওপর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণও সামলাতে হচ্ছে তাকে।
রিকশা চালানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করলেও দেড়িতে বেতন পান বলে জানান হালিমা। এতে মাসের শুরুতে ঘরভাড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েন তিনি। ভাড়া দিতে দেরি হলে বাড়িওয়ালার বকাঝকাও শুনতে হয়।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করেও পাননি হালিমা। তার ভাষ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় এখনো কার্ড পাননি তিনি। আর্থিক সংকটের মধ্যে সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে মনে করেন তিনি।
তবে হালিমা চান না, সারাজীবন রিকশা চালিয়ে কাটাতে হোক। রাস্তায় রিকশা চালাতে গিয়ে মানুষের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয় তাকে। তাই বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে গ্রামে ফিরে স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চান। ছোট একটি ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
লেখক: ফিচার লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী
রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় থাকেন হালিমা। তার স্বামী মজিবর রহমান ও চার মেয়ে থাকেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে। জীবিকার তাগিদে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় তাকে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ শেষে রিকশা নিয়ে বের হন রাস্তায়। দিনভর পরিশ্রম করে যা আয় হয়, তা দিয়ে নিজের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্যও টাকা পাঠান।
হালিমা জানান, একসময় তার স্বামী কাজ করতেন। কিন্তু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পড়েছে হালিমার কাঁধে।
চার মেয়ের মধ্যে বড় দুজনের বয়স ১৬ ও ১৩ বছর। অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ১১ ও ৯ বছর বয়সী ছোট দুই মেয়ে মাদরাসায় পড়ছে। এই দুই মেয়েকে হাফেজা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন হালিমা। কিন্তু সংসারের অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে তাকে।
এর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার টাকার ঋণ। হালিমা জানান, গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় রিকশা নিয়ে চালানোর জন্য এক ব্যক্তিকে ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ব্যক্তি রিকশা নিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঋণের দায় এসে পড়ে তার ওপর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণও সামলাতে হচ্ছে তাকে।
রিকশা চালানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করলেও দেড়িতে বেতন পান বলে জানান হালিমা। এতে মাসের শুরুতে ঘরভাড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েন তিনি। ভাড়া দিতে দেরি হলে বাড়িওয়ালার বকাঝকাও শুনতে হয়।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করেও পাননি হালিমা। তার ভাষ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় এখনো কার্ড পাননি তিনি। আর্থিক সংকটের মধ্যে সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে মনে করেন তিনি।
তবে হালিমা চান না, সারাজীবন রিকশা চালিয়ে কাটাতে হোক। রাস্তায় রিকশা চালাতে গিয়ে মানুষের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয় তাকে। তাই বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে গ্রামে ফিরে স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চান। ছোট একটি ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
লেখক: ফিচার লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী