শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এতে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের ওজন কমানোর ওষুধ ও অস্ত্রোপচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে এসব চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে নয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের গ্যাস্ট্রিক বাইপাসের মতো অস্ত্রোপচার এবং জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি যেসব কিশোর-কিশোরী গুরুতর স্থূলতায় ভুগছে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে ওষুধ বা অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা যেতে পারে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা অনুসরণ করেও সুফল না পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এসব চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।
স্থূলতা কমাতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে হু-এর পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া ডি রেগিল জানিয়েছেন, এসব ওষুধের কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই। এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। নতুন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
নির্দেশিকায় খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও জীবনযাপনের পরিবর্তনসংক্রান্ত বিদ্যমান তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতার কারণে অল্প বয়সেই বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যাটি লিভার, প্রিডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো জটিলতার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই শুরু থেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু-কিশোর স্থূলতায় ভুগছিল। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্থূলতার হার বৃদ্ধির বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
ল্যানসেটের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১৯৯০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মেয়েদের স্থূলতার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ এবং ছেলেদের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯০ সালে দেশটিতে স্থূলতায় আক্রান্ত মেয়েশিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৭৩ লাখে পৌঁছায়। একই সময়ে ছেলেদের সংখ্যা দুই লাখ থেকে বেড়ে ৫২ লাখ হয়েছে।
এদিকে, ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন ১২ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচার তাদের পুষ্টি ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য