ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে একসময় অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এবার নজিরবিহীনভাবে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
বামপন্থী রাজনীতির এই প্রভাবশালী নেতা ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।
দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা লুলার এই চমকপ্রদ জয় তার কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায়। ধাতুশ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের ভেতর থেকে শুরু হওয়া তার সেই যাত্রায় কারাবাসের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়ী হতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ।
প্রায় ৮১ বছর বয়সে তিনি দায়িত্ব পালনে কতটা সক্ষম, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্কোয়াট ব্যায়াম ও জগিং করে নিজের শারীরিক সক্ষমতা তুলে ধরেন লুলা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তিনি এখন বেশি কর্মক্ষম।
চলতি মাসের শুরুতে ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে প্রথম দফার ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকায় প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান লুলা। এরপর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপরতা বাড়ান তিনি। নিজের মুঠোফোনে সেলফি ভিডিও ধারণ করে পোস্ট করেন এবং প্রথমবারের মতো একটি মোবাইল ফোনও কেনেন।
প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার ১৪ বছর পর তার এই পরিবর্তন ব্রাজিলের অনলাইননির্ভর ও গভীরভাবে বিভক্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কিছুটা দূরত্বের বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।
লুলার এ জয় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে বামপন্থী রাজনীতির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখল। এ অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রভাব বাড়ছে।
দারিদ্র্য, প্রেসিডেন্টের পদ ও কারাবাস
চার দশক ধরে ব্রাজিলের রাজনীতির অন্যতম নির্ধারক ব্যক্তিত্ব লুলা দারিদ্র্য থেকে উঠে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, পরে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কারাবরণ করেছেন এবং প্রায় চার বছর আগে আবার ক্ষমতায় ফিরে রাজনৈতিক ছাইভস্ম থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন।
প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজের জীবনকাহিনি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ক্লান্ত ও হতাশ ব্রাজিলীয় ভোটাররা কী শুনতে চেয়েছেন, তা বুঝতে ভুল করেছিলেন তিনি।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শুষ্ক পার্নামবুকো রাজ্যে নিরক্ষর কৃষক পরিবারের আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম হিসেবে জন্ম লুলার। তাঁর শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে।
জুতা পালিশ ও চিনাবাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পর তিনি ধাতুশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৬০-এর দশকে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় তার একটি আঙুল কেটে যায়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনবার পরাজিত হওয়ার পর অবশেষে ২০০৩ সালে ব্রাসিলিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করেন লুলা। ২০০৬ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।
২০১০ সালে দায়িত্ব ছাড়ার সময় তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের কাছে জনপ্রিয় এক নেতা। পণ্যনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে তাঁর সরকারের অধীনে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন।
কিন্তু বড় ধরনের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি লুলা ও তার দলকে দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়ায়। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়, যার সুযোগ নিয়ে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জাইর বলসোনারো।
ওই নির্বাচনের আগে লুলাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে প্রক্রিয়াগত কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিল হয় এবং মামলার প্রধান বিচারকের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিষয়টি সামনে আসে।
তবে এসবের অর্থ এই নয় যে লুলাকে অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছিল। দুর্নীতির কেলেঙ্কারিটি ব্রাজিলের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী বিভাজন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
বলসোনারোর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বিভাজন আরও গভীর হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে অতি সামান্য ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসেন লুলা।
‘দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা’
লুলার তৃতীয় মেয়াদে তার সরকারের কৃতিত্ব হিসেবে সামাজিক কর্মসূচিগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, পূর্বসূরির আমলে দুর্বল হয়ে পড়া এসব কর্মসূচি পুনরুদ্ধার, আমাজন বন ধ্বংসের গতি কমানো এবং ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে আরও নিরাপদ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কথা বলা হয়।
তবে পাঁচ সন্তানের জনক লুলা এখনও অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে হতাশ ভোটারদের তীব্র বিরোধিতার মুখে রয়েছেন।
দেশটির ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। উচ্চ সুদের কারণে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বলসা ফামিলিয়া’ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা বৃদ্ধি। দুই দশক আগে চালু হওয়া এই কর্মসূচি লুলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচিত।
মারানিয়াও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে নিজের বাড়িতে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলে আন্তোনিও কার্লোস লিমা ফেরেইরা বলেন, ‘দরিদ্রদের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। বিষয়টি আসলে এতটুকুই।’
একসময় ছেলেকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে পাঠাতে হতো, সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমার খাবার টেবিলে আমি কী খাব, তা নিজেই বেছে নিতে পারি।’
সম্প্রতি লুলা বলেছেন, তিনি চান না মানুষ তাঁকে কেবল ‘বলসা ফামিলিয়ার প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে মনে রাখুক।
উত্তরসূরি তৈরি করেননি লুলা
লুলা সম্ভাব্য কোনো উত্তরসূরিকে গড়ে তোলেননি। বরং তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম অঙ্গীকার ছিল, উগ্র ডানপন্থীদের আবার ক্ষমতায় ফিরে এসে দেশকে ‘ধ্বংস’ করা থেকে বিরত রাখা।
রোববারের এই অপ্রত্যাশিত জয় তার সমর্থকদের বিস্মিত ও উচ্ছ্বসিত করেছে। তাদের অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট হলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বামপন্থীদের এক সমাবেশে এএফপিকে সরকারি কর্মকর্তা গুস্তাভো মন্টেইরো, ৫৮, বলেন, লুলা ‘গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হিসেবেই সবসময় থেকে যাবেন’।
তিনি বলেন, ‘তিনি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অন্য যেকোনো নেতার তুলনায় লুলা ইতোমধ্যে বেশি সময় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এএফপিসহ বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই দেশে আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ কোনো প্রেসিডেন্ট নেই।’
বামপন্থী রাজনীতির এই প্রভাবশালী নেতা ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।
দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা লুলার এই চমকপ্রদ জয় তার কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায়। ধাতুশ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের ভেতর থেকে শুরু হওয়া তার সেই যাত্রায় কারাবাসের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়ী হতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ।
প্রায় ৮১ বছর বয়সে তিনি দায়িত্ব পালনে কতটা সক্ষম, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্কোয়াট ব্যায়াম ও জগিং করে নিজের শারীরিক সক্ষমতা তুলে ধরেন লুলা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তিনি এখন বেশি কর্মক্ষম।
চলতি মাসের শুরুতে ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে প্রথম দফার ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকায় প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান লুলা। এরপর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপরতা বাড়ান তিনি। নিজের মুঠোফোনে সেলফি ভিডিও ধারণ করে পোস্ট করেন এবং প্রথমবারের মতো একটি মোবাইল ফোনও কেনেন।
প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার ১৪ বছর পর তার এই পরিবর্তন ব্রাজিলের অনলাইননির্ভর ও গভীরভাবে বিভক্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কিছুটা দূরত্বের বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।
লুলার এ জয় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে বামপন্থী রাজনীতির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখল। এ অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রভাব বাড়ছে।
দারিদ্র্য, প্রেসিডেন্টের পদ ও কারাবাস
চার দশক ধরে ব্রাজিলের রাজনীতির অন্যতম নির্ধারক ব্যক্তিত্ব লুলা দারিদ্র্য থেকে উঠে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, পরে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কারাবরণ করেছেন এবং প্রায় চার বছর আগে আবার ক্ষমতায় ফিরে রাজনৈতিক ছাইভস্ম থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন।
প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজের জীবনকাহিনি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ক্লান্ত ও হতাশ ব্রাজিলীয় ভোটাররা কী শুনতে চেয়েছেন, তা বুঝতে ভুল করেছিলেন তিনি।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শুষ্ক পার্নামবুকো রাজ্যে নিরক্ষর কৃষক পরিবারের আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম হিসেবে জন্ম লুলার। তাঁর শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে।
জুতা পালিশ ও চিনাবাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পর তিনি ধাতুশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৬০-এর দশকে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় তার একটি আঙুল কেটে যায়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনবার পরাজিত হওয়ার পর অবশেষে ২০০৩ সালে ব্রাসিলিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করেন লুলা। ২০০৬ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।
২০১০ সালে দায়িত্ব ছাড়ার সময় তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের কাছে জনপ্রিয় এক নেতা। পণ্যনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে তাঁর সরকারের অধীনে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন।
কিন্তু বড় ধরনের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি লুলা ও তার দলকে দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়ায়। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়, যার সুযোগ নিয়ে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জাইর বলসোনারো।
ওই নির্বাচনের আগে লুলাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে প্রক্রিয়াগত কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিল হয় এবং মামলার প্রধান বিচারকের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিষয়টি সামনে আসে।
তবে এসবের অর্থ এই নয় যে লুলাকে অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছিল। দুর্নীতির কেলেঙ্কারিটি ব্রাজিলের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী বিভাজন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
বলসোনারোর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বিভাজন আরও গভীর হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে অতি সামান্য ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসেন লুলা।
‘দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা’
লুলার তৃতীয় মেয়াদে তার সরকারের কৃতিত্ব হিসেবে সামাজিক কর্মসূচিগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, পূর্বসূরির আমলে দুর্বল হয়ে পড়া এসব কর্মসূচি পুনরুদ্ধার, আমাজন বন ধ্বংসের গতি কমানো এবং ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে আরও নিরাপদ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কথা বলা হয়।
তবে পাঁচ সন্তানের জনক লুলা এখনও অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে হতাশ ভোটারদের তীব্র বিরোধিতার মুখে রয়েছেন।
দেশটির ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। উচ্চ সুদের কারণে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বলসা ফামিলিয়া’ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা বৃদ্ধি। দুই দশক আগে চালু হওয়া এই কর্মসূচি লুলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচিত।
মারানিয়াও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে নিজের বাড়িতে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলে আন্তোনিও কার্লোস লিমা ফেরেইরা বলেন, ‘দরিদ্রদের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। বিষয়টি আসলে এতটুকুই।’
একসময় ছেলেকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে পাঠাতে হতো, সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমার খাবার টেবিলে আমি কী খাব, তা নিজেই বেছে নিতে পারি।’
সম্প্রতি লুলা বলেছেন, তিনি চান না মানুষ তাঁকে কেবল ‘বলসা ফামিলিয়ার প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে মনে রাখুক।
উত্তরসূরি তৈরি করেননি লুলা
লুলা সম্ভাব্য কোনো উত্তরসূরিকে গড়ে তোলেননি। বরং তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম অঙ্গীকার ছিল, উগ্র ডানপন্থীদের আবার ক্ষমতায় ফিরে এসে দেশকে ‘ধ্বংস’ করা থেকে বিরত রাখা।
রোববারের এই অপ্রত্যাশিত জয় তার সমর্থকদের বিস্মিত ও উচ্ছ্বসিত করেছে। তাদের অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট হলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বামপন্থীদের এক সমাবেশে এএফপিকে সরকারি কর্মকর্তা গুস্তাভো মন্টেইরো, ৫৮, বলেন, লুলা ‘গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হিসেবেই সবসময় থেকে যাবেন’।
তিনি বলেন, ‘তিনি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অন্য যেকোনো নেতার তুলনায় লুলা ইতোমধ্যে বেশি সময় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এএফপিসহ বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই দেশে আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ কোনো প্রেসিডেন্ট নেই।’