চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক নিজের দাপ্তরিক কাজ ও আপ্যায়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেছেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে। এ অর্থে- তিনটি আবাসিক হলে কম্পিউটার এবং একটি হলে সুপেয় পানির ফিল্টার স্থাপন করেছেন তিনি।

বরাদ্দের অর্থে শাহজালাল, অতীশ দীপঙ্কর ও বিজয় চব্বিশ হলে একটি করে কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব হলে কম্পিউটারের অভাবে শিক্ষার্থীদের প্রেজেন্টেশন তৈরি, টাইপিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ডাইনিংয়ে স্থাপন করা হয়েছে সুপেয় পানির ফিল্টার। এর মাধ্যমে হলের ৭৫০-এর বেশি শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন। ফিল্টারের পানির গুণগত মান পরীক্ষা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

এর আগে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সহযোগিতায় পাঁচটি ছাত্রী হলে পাঁচটি ডিপ ফ্রিজ সরবরাহ করেন তৌফিক। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোর রিডিং রুমে বিসিএস, ব্যাংক, এনটিআরসিএ ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক বই সরবরাহের উদ্যোগ নেন।নিজ বরাদ্দের আড়াই লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করলেন চাকসু এজিএস।

এজিএস তৌফিকের এমন কাজের প্রশংসা করে চবির শাহজালাল হল সংসদের সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তামিম বলেন, হলে কম্পিউটার না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত কাজে ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিষয়টি জানালে তৌফিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করেন।

নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা মনে করেন তিনি। এজিএস হিসেবে দাপ্তরিক খরচ ও আপ্যায়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় না করে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে নিজের চা-নাস্তা, আপ্যায়ন ও যাতায়াতের খরচও ব্যক্তিগত ভাবে বহন করেছেন।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।