যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। রোববার (১ নভেম্বর) রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে।
এর আগে সামারা অঞ্চলে রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়।
তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হোয়াইট হাউজের চাপ মেনে নিয়েছে ইউক্রেন।
তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার যে দাবি জানানো হয়েছিল, তাতে সম্মতি দেয়নি কিয়েভ।
রাশিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার থেকে ইউক্রেন আবারও হামলা শুরু করেছে। ক্রেমলিনের অভিযোগ, কিয়েভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাকে সরাসরি উপেক্ষা করছে।
এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয় তার প্রশাসন।
রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাতেও হামলার দাবি জেলেনস্কির
সাম্প্রতিক তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি।
তবে তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা।
ওই কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো বলে দাবি করেছেন তিনি। হামলায় রাশিয়ার প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি ইউনিট ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান জেলেনস্কি।
তিনি এসব হামলাকে ইউক্রেনের চলমান ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জেলেনস্কির বক্তব্য, ইউক্রেনের শহরগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে কিয়েভ।
রুশ হামলায় বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ
ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রোববার রাতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। এতে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার তীব্রতা অনেক বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নিতে চাইছে মস্কো।
রাজধানী কিয়েভেও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববার শহরের বিভিন্ন এলাকায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।
জেলেনস্কির দাবি, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার ৪০০ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে এটি রাশিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষয়ক্ষতি।