ফ্রান্স, ইতালির পর এবার জার্মানিতেও রাজপথে নেমেছেন হাজারো তরুণ। কারও হাতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড, কারও কণ্ঠে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি।
দিনের বেলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চললেও সন্ধ্যার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। দেশটির ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানের জানালা ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিক্ষোভ রূপ নেয় ব্যাপক সহিংসতায়।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়াও বার্লিন, কোলন ও হামবুর্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব শহরে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ জরুরি সেবাকর্মীদের নিশানা করে আতশবাজি, পাথর ও বোতল ছোড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
জার্মানির জেন জি রেগেল্ট নামের একটি প্রচারাভিযান গোষ্ঠী এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় নামটির অর্থ, ‘জেন জি দায়িত্ব নিচ্ছে’।
স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি খরচ কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন তরুণেরা। তবে, দিনের বেলায় এ কর্মসূচি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাত নামার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান কেনাকাটার সড়কের বড় একটি অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এছাড়া, শহরটিতে অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক মুখপাত্র।
এদিকে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব শহরে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ১৮ হাজার পর্যন্ত ছিল।
তবে, আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ছিল এর প্রায় দ্বিগুণ। জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবেও, গত শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয় এবং জরুরি সেবাকর্মীদের নিশানা করে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়।
পরে, একটি আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানের জানালাও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
জার্মানির হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক অভিযোগ করেন, ফ্রাঙ্কফুর্টের বিক্ষোভে বামপন্থি উগ্রবাদীদের প্রায় ১০০ জনের একটি দল ঢুকে পড়েছিল। বিক্ষোভের শেষ পরিণতিকে তিনি লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোমান পোসেক বলেন, ফ্রান্সের বিক্ষোভের সময় দোকানপাট লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জার্মানিতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না বলে জানান তিনি।
এদিকে, জেন জি রেগেল্টের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেছেন, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ ও জবরদস্তির পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা।
একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও সহায়তা বাড়ানো, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধ করা এবং মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা ন্যায্যভাবে বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
লিনা ফ্রিডরিখের মতে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে তাদের অবস্থান।