জনপ্রিয় অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে তার বাবার সঙ্গে দেখা গেছে বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে। ছবিটির সঙ্গে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণও করেছেন জয়। তবে তার এই পোস্ট ঘিরে ভক্তদের মন্তব্যে উঠে এসেছে জমি পাওয়ার প্রসঙ্গ।

পোস্টে জয় জানান, তার বাবা একসময় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। অন্যদিকে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ তখন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ছিলেন। সরকারি সফরে দুজন একসঙ্গে নেদারল্যান্ডস ও লন্ডনে গিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহের ওই সফরে মন্ত্রীর একমাত্র সফরসঙ্গী ছিলেন তার বাবা। 

বাবার কাছ থেকেই ওই সময় মন্ত্রী সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছিলেন বলে জানান জয়। ছয় বছর ধরে বাবা নেই, অথচ সেই মন্ত্রী আজ আরও বড় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়ে স্পিকার হয়েছেন- এ কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেতা।

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জয় লেখেন, ‘বর্তমান স্পিকার এবং আমার বাবা। বাবা তখন বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। আর বর্তমান স্পিকার ছিলেন পরিবেশ এবং বনমন্ত্রী। সরকারি সফরে একসাথে নেদারল্যান্ড এবং লন্ডন গিয়েছিলেন দুই সপ্তাহের জন্য। মন্ত্রীর একজনই সফর সঙ্গী। তিনি আমার বাবা।’

তিনি আরও লেখেন, ওই সময় বাবার কাছে মন্ত্রীর অনেক সুনাম শুনেছিলাম। আজ আমার বাবা নেই ছয় বছর। অথচ সেই মন্ত্রী আরও বড় হয়ে স্পিকার হয়ে গেছেন। কে জানে দুই সপ্তাহের ইউরোপ সফরের সঙ্গী আমার বাবাকে তিনি মনে রেখেছেন কিনা? না রাখলেও কিছু যায় আসে না। বড় বড় মানুষদের জীবনে কত মানুষ আসে যায়। ছোটরা স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রাখে। বড়দের স্মৃতিতে বসবাস করার সময় হয় না।

পোস্টের শেষে জয় স্পষ্ট করে দেন, এটি কোনো রাজনৈতিক পোস্ট নয় বরং বাবাকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। তার ভাষায়, এই পোস্টটি শুধুমাত্র বাবার স্মৃতিচারণ। ইহা কোন রাজনৈতিক পোস্ট না।

এদিকে, জয়ের এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন অনুরাগীরা। একজন মন্তব্য করেছেন, এবার জমি পাবে নিশ্চিত। আরেকজন লিখেছেন, কতো কাঠা জমি দরকার ভাইয়া?

তবে ভক্তদের এসব মন্তব্যে জমির প্রসঙ্গ কেন এসেছে, তা নিয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানাননি জয়। তার মূল বক্তব্যজুড়ে ছিল প্রয়াত বাবার স্মৃতি এবং একসময় বাবার সফরসঙ্গী থাকা ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি।

বাবার সঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের পুরোনো ছবিটি শেয়ার করে জয় মূলত স্মৃতির পাতায় ফিরে গেছেন। আর সেই পোস্ট ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।